প্রবাসীরা ঠকছেন

ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশে টাকার মান দীর্ঘদিন ধরেই শক্ত অবস্থানে আছে। টাকার মান বেড়েছে। এর মানে হলো, প্রবাসীরা ডলার পাঠিয়ে আগের চেয়ে কম টাকা পান। দুই বছর আগে প্রবাসীরা এক ডলার পাঠালে ৮০ টাকা পেতেন। এখন পান ৭৮ টাকা। সেই হিসাবে, এ বছরের প্রথম ১০ মাসে ১ হাজার ২২৫ কোটি ডলার পাঠিয়ে প্রবাসীরা কমবেশি ৯৫ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা পেয়েছেন। দুই বছর আগে একই পরিমাণ ডলার পাঠিয়ে ৯৮ হাজার কোটি টাকা পেতেন তাঁরা। এর মানে হলো, শুধু মুদ্রা বিনিময়ের হারের কারণেই দুই বছরের ব্যবধানে আড়াই হাজার কোটি টাকা কম পেয়েছেন প্রবাসীরা।
সম্প্রতি আবার নতুন সমস্যার উদ্ভব হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ডলারের দাম বেড়েছে। ওই সব দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্থানীয় মুদ্রাকে ডলারে রূপান্তর করে দেশে পাঠান। তাঁদের এখন আগের চেয়ে বেশি স্থানীয় মুদ্রা খরচ করে ডলার কিনতে হচ্ছে। তাই তাঁদের আগের চেয়ে কম ডলার পাঠাতে হচ্ছে।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কাজী খালিদ প্রায় চার বছর ধরে ইতালিতে থাকেন। তাঁর ভাই কাজী শাহাদত প্রথম আলোকে বলেন, এক বছর আগেও তাঁর ভাইয়ের পাঠানো ১ হাজার ইউরোর বিপরীতে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা পাওয়া যেত। এখন ৮৭-৮৮ হাজার টাকার বেশি পাওয়া যায় না। তাই তাঁর ভাই (কাজী খালিদ) জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দেশে টাকা পাঠান না।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, যেসব দেশ থেকে বেশি  রেমিট্যান্স আসে, সেখানে ডলারের দাম বেড়ে গেছে। ফলে প্রবাসীরা আগের মতো রেমিট্যান্স পাঠালেও আমরা কম পাচ্ছি। এ ছাড়া তেলের দাম কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে প্রবাসীদের আয়ে। মূলত এ দুই কারণে রেমিট্যান্স কিছুটা কমে গেছে।’
টাকাকে শক্ত অবস্থানে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত ৭ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩৭৬ কোটি ডলার, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫১৫ কোটি ডলার ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫৫৪ কোটি ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রথম আলোর সৌজন্যে

share this news to friends