লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যার ‘মূল ঘাতক’ আল-মিশাই নিহত!

উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার ‘মূল ঘাতক’ মিলিশিয়া নেতা খালেদ আল-মিশাই দেশটির বিমান বাহিনীর এক ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি লিবিয়ার দক্ষিনাঞ্চলীয় অনুন্নত শহর মিজদায়ে বাংলাদেশিসহ যে ৩০ জনকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, এর পিছনেও এই কুখ্যাত খুনির হাত ছিল বলে জানা গেছে। 

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য ডেইলি লিবিয়া অবজারভার’ জানায়, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২ মে) রাজধানী ত্রিপোলির ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে গারিয়ান শহরের কাছে এক ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন উক্ত মিলিশিয়া নেতা খালেদ আল-মিশাই।

পত্রিকাটির এক টুইট বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে। টুইট বার্তাটি আজ বুধবার (৩ জুন) সকালে গণমাধ্যমে পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

এদিকে, একই গণমাধ্যমে প্রকাশিত অপর এক খবরে জানা গেছে, গত সোমবার (১ জুন) লিবিয়ার ঘোট আল্লরিহ শহরে দেশটির বিমান বাহিনীর ড্রোন হামলার কবলে পড়ে খলিফা হাফতারের বাহিনী। ওই হামলায় বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আল-মিশাইও নিহত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লিবিয়ার একাংশের নিয়ন্ত্রক বিদ্রোহী জেনারেল খলিফা হাফতারের অনুসারী ছিলেন এই খালেদ আল-মিশাই। রাজধানী ত্রিপোলিসহ অনেক এলাকা জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের (জিএনএ) নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বেনগাজীসহ অনেক তেলসমৃদ্ধ এলাকা আমিরাত সমর্থিত বিদ্রোহী নেতা খলিফা হাফতারের বাহিনীর দখলে রয়েছে।

গত ২৮ মে ত্রিপোলি থেকে দূরে মিজদা শহরে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করে এক মানবপাচারকারীর সহযোগী ও স্বজনরা। নিহত বাংলাদেশিদের অর্ধেকের বাড়ি মাদারীপুরে। এতে আহত হন আরও ১১ জন বাংলাদেশি।

বাংলাদেশিসহ ওই অভিবাসীদের মিজদা শহরের একটি জায়গায় মুক্তিপণের জন্য জিম্মি রেখেছিল মানবপাচারকারী চক্র। এ নিয়ে একপর্যায়ে ওই চক্রের সঙ্গে মারামারি হয় অভিবাসী শ্রমিকদের। এতে এক মানবপাচারকারী নিহত হয়। তারই প্রতিশোধ হিসেবে সেই মানবপাচারকারীর লোকজন এ হত্যাকান্ড ঘটায়।

এই হত্যার ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহ ও নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য খলিফা হাফতারের শিষ্যদের দায়ী করেছে লিবিয়ার জিএনএ সরকার।
এই নির্মম হত্যাকান্ডের পর লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

লিবিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে অপর এক বিবৃতিতে বলা হয়, হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। ওই বিবৃতিতে নিহতদের পরিবার ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানানো হয়েছিল।

এ ঘটনার মাত্র কয়েক দিন পরেই সরকারি বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হলেন খালেদ আল-মিশাই।

এদিকে, লিবিয়ায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী হতাহতের ঘটনায় গত সোমবার ভোরে মানবপাচারকারীচক্রের অন্যতম হোতা কামাল উদ্দিন ওরফে হাজি কামালকে (৫৫) রাজধানীর শাহজাদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাব। তাঁর কাছ থেকে ৩১টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। ওই পাসপোর্টগুলোর মালিকদের তিনি লিবিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন।

এছাড়া ওই ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে এবং হত্যার অভিযোগে মামলাটি (নং-১) দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এর আগে একই ঘটনায় মাদারীপুরের রাজৈর থানায় দুটো, মাদারীপুর সদর থানায় একটি ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানায় একটিসহ মোট চারটি মামলা করেন নিহতদের অভিভাবকরা।

মাইগ্রেশননিউজবিডি.কম/আরএস ##

 

share this news to friends