কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা প্রশিক্ষণে নতুন উদ্যোগের জন্য কিছু চিন্তাভাবনা
ড. মোঃ নুরুল ইসলাম

বাংলাদেশে প্রতি বছর ২০ লক্ষ কর্মক্ষম ব্যক্তি শ্রমশক্তিতে প্রবেশ করছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য এ বিশাল জনগোষ্ঠিকে মানব সম্পদে পরিণত করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য দক্ষতা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার প্রসার এখন একটি মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১১ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালা (এন এসডিপি) গৃহীত হয়েছিল। যার মধ্যে মূলত অন্তর্ভূক্ত ছিল: i) বাংলাদেশে দক্ষতার মান এবং প্রাসঙ্গিকতা উন্নত করন, ii) শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা প্রশিক্ষণকে পুনর্বিন্যাস করন এবং iii) বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দ্বারা দক্ষতা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পরিকল্পনা, সমন্বয় ও তদারকির সক্ষমতা অর্জন করা।

এনএসডিপি গৃহীত হবার পরে দক্ষতা প্রশিক্ষণ বিকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সাফল্য হ'ল বাংলাদেশে কারিগরি প্রশিক্ষণে (টিভিইটি) অংশগ্রহণের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৮ সালে টিভিইটিতে ভর্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ১% এবং এটি ২০১৯ সালে ১৫% অর্জন করেছে। তবে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নয়নের জন্য (এম আই সি) কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির সংখ্যা ৫০% এ উন্নীত হওয়া প্রয়োজন।

সাম্প্রতিককালে কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার উপর জোর দেয়া হয়েছে। এজন্য ন্যাশনাল টেকনিকাল এন্ড ভকেশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক (এনটিভিকিউএফ) নামে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত দক্ষতা ও যোগ্যতার মাপকাঠি প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন কর্মসংস্থান বাজারের চাহিদা অনুসারে প্রশিক্ষণের মান নির্ধারণ করার ভিত্তি সৃষ্টি এবং দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন (সিবিটি এবং এ) এর বিধান তৈরি করা হয়েছে যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রশিক্ষণ সংস্থায় বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সিবিটি সিস্টেমের ভিত্তিতে প্রায় ১৭০০ টি দক্ষতামান (কম্পিটেন্সি স্যান্ডার্ড) এবং মূল্যায়ন টুলস প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি স্ট্যান্ডার্ড কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং শিল্প থেকে দক্ষ এবং সার্টিফাইড প্রশিক্ষক এবং মূল্যায়নকারীগণ (এসেসর) সিবিটি এবং এর ​​অধীনে মূল্যায়নের পদ্ধতিগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়েছেন।

টিভিইটি প্রোগ্রাম এবং প্রশিক্ষণ প্রদানকারীদের গুণগত মান নিশ্চিত করতে জাতীয় দক্ষতা মানের নিশ্চতকরন সিস্টেম (এনএসকিউএএস) তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রদানকারীরা তাদের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে ধীরে ধীরে এনএসকিউএএস-এর বিধানগুলি বাস্তবায়ন করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে টিভিইটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হ'ল দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির শিল্প কারখানার সাথে জোরদার সংযোগের দিকে আগ্রহ। বর্তমানে প্রশিক্ষণ প্রদানকারীরা প্রশিক্ষার্থীদের চাকরি প্রাপ্তি নিশ্চিতকরন ও পাঠ্যক্রমের উন্নতির জন্য শিল্প কারখানা ও নিয়োগকারীদের সাথে কার্যকর সংযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। তারা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে শিল্প থেকে সদস্যদের জড়িত করার এবং উত্তীর্ণ প্রশিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুবিধার্থে জব ফেয়ার, নিয়োগকর্তা দিবস আয়োজন ইত্যাদি উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।

আরেকটি দিক হ'ল শিক্ষানবিসি প্রশিক্ষণ; আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতগুলিতে প্রশিক্ষিত মোট শিক্ষানবিসির সংখ্যা যথাক্রমে ২৭,০৬০ এবং ১৫,১০১ জন এবং এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৮৬ ও ৬৭০৯। অথচ ১৯৬২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রশিক্ষণ প্রদানের সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েক শত। শিক্ষানবিসি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার প্রচার ও প্রসার এবং সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আরও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে। এর জন্য অ্যাকশন প্ল্যানসহ পৃথক নীতিমালা এবং সময়াবদ্ধ কৌশল প্রস্তুত করা যেতে পারে।

বিগত কয়েক বছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে দক্ষতা প্রশিক্ষণের উন্নয়নের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রকল্প সহায়তা পাওয়া গেছে। দক্ষতা প্রশিক্ষণে পরিচালিত প্রকল্পগুলির মূল লক্ষ্য প্রশিক্ষণ সুবিধার উন্নতি, শিক্ষকদের মান উন্নীতকরণ, জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা ফ্রেমওয়ার্ক (এনটিভিকিউএফ) এর উপর ভিত্তি করে পাঠ্যক্রম এবং দক্ষতার মান উন্নয়ন করা। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশে উন্নয়ন ব্যবস্থায়

দক্ষতা প্রশিক্ষণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ওয়ার্ল্ড ব্যাংক (ডাব্লুবি), এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা (জিএসি, প্রাক্তন সিডা), সুইস এজেন্সি ফর ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড কোঅপারেশন (এসডিসি), কোরিয়ান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কোইকা), ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি), ইউকে-এইড ইত্যাদি দক্ষতার মান উন্নয়ন এবং সংখ্যা বৃদ্ধি, উভয় ক্ষেত্রে সহায়তা বাড়িয়েছে, তবে এই সহায়তাগুলি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় যথেষ্ট পরিমাণে উন্নতি সাধন করতে পারেনি যা ভবিষ্যতে আরও জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের গুণগতমান এবং সংখ্যা বৃদ্ধি, উভয় ক্ষেত্রে বর্ধিত সহায়তার জন্য সরকার এবং উন্নয়ন অংশীদারদের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে সমন্বিত ঊদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

শিল্প কারখানার সাথে টিভিইটি পদ্ধতির নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করার জন্য বিভিন্ন শিল্প ক্ষেত্রে “শিল্প দক্ষতা পরিষদ” বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কিলস কাউন্সিল (আইএসসি) গঠন করা হয়েছে। অন্যান্য উন্নত দেশগুলির মতো এ সকল আই এস সিসমূহ দক্ষতা চাহিদা নিরূপন এবং দক্ষতার সরবরাহ নিশ্চত করতে খুব কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। এখন পর্যন্ত ১৩ টি সেক্টরের আইএসসি গঠন করা হয়েছে; যার মধ্যে ৯ টি সক্রিয় রয়েছে। এগুলি হ'ল: i) চামড়া ও চামড়াজাত সামগ্রী, ii) কৃষি-খাদ্য, iii) তৈরী পোষাক, iv) জাহাজ-নির্মান, v) পূর্ত নির্মাণ, vi) আসবাবপত্র, vii) পর্যটন, viii) হালকা প্রকৌশল এবং ix) অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্র।

সকল সেক্টরে আই এস সি স্থাপন এবং এদের কার্যকরভাবে পরিচালনা করা বিশেষ প্রয়োজন। তাহলে শিল্প কারখানার প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা প্রশিক্ষণ পরিচালনা সম্ভব হবে।

যাদের প্রাতিষঠানিক কোন প্রশিক্ষণ নেই কিন্তু কাজের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জিত হয়েছে তাদের পরীক্ষা নিয়ে সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করলে তাদের কর্মসংস্থান উন্নতি হতে পারে। কেবলমাত্র ব্যবহারিক বাস্তব কাজ করার দক্ষতা অর্জনকারী কর্মীদের যথাযথ সনদ অর্জনের জন্য "রিকগনিশন অফ প্রায়র লার্নিং (আরপিএল)" কর্মসূচী চালু করা হয়েছে। আরপিএল কর্মসূচির আওতায় ১০,০০০ এরও বেশি কর্মীকে সনদায়ন করা হয়েছে, যা তাদের মজুরি বাড়ায় এবং কর্মসংস্হান প্রাপ্তিতে আরও ভাল সুযোগ করে দেয়। উন্নততর কর্মসংস্থানসহ তাদের মজুরি ও মর্যাদা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মীদের গন্তব্য দেশগুলিতে আরপিএল চালু করা যেতে পারে।

অর্থনীতিতে যুব সম্প্রদায়ের অবদান কাজে লাগাতে টিভিইটির সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। সরকার ‘দক্ষতা প্রশিক্ষণ পরিচালনায় সহায়তা প্রদানের জন্য অর্থায়ন ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে জাতীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে এবং বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও অভিবাসন সম্প্রসারণের জন্য আরেকটি এন্ডাওমেন্ট তহবিল তৈরি করা হয়েছে এবং বীজ তহবিল হিসেবে ১৪০.০০ কোটি টাকা এই তহবিলে দেয়া করা হয়েছে।

বাংলাদেশে টেকসই দক্ষতা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য নতুন কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে। চাহিদা আর সরবরাহের মধ্যে দক্ষতা ব্যবধান (স্কিল গ্যাপ) এবং দক্ষতার অসামঞ্জস্যতা (স্কিল মিসম্যাচ) বর্তমান দক্ষতা সিস্টেমের দুটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি প্রশিক্ষণের সমস্ত ধাপে সঠিকভাবে সম্পৃক্ত করা উচিত। এক্ষেত্রে দক্ষতার গুণগত মান সুরক্ষা করার জন্য মানসম্পন্ন ম্যানুয়াল প্রস্তুত এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন পদ্ধতি প্রস্তুত করা উচিত। দক্ষতা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পরিচালনায় সর্ব্বোচ্চ শীর্ষসংস্থা হিসাবে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পরিষদ (এনএসডিএ)’র ভূমিকা প্রণিধানযোগ্য। দক্ষতা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থেকে সর্বাধিক ফলাফল লাভের জন্য এন এস ডি এ কে সমস্ত দায়িত্ব পালন করার লক্ষ্যে ড্রাইভিং সিট গ্রহণ করে সকল স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ভবিষ্যতের দক্ষতার চাহিদা এবং স্থানীয় ও বৈদেশিক শ্রম বাজারে প্রশিক্ষিত কর্মীদের কর্মসংস্হানের লক্ষ্যে স্টাডি এবং গবেষণা পরিচালনা করে যথাযথ দক্ষতা প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। এই গবেষণা নিয়মিত ভিত্তিতে প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাগুলো মূল্যায়নে সহায়তা করবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের দক্ষতা প্রশিক্ষণের জন্য বিস্তারিত কৌশলও প্রণয়ন করতে হবে।

বৈদেশিক কর্মসংস্হানে দক্ষকর্মীদের যথাযথ পদে নিয়োগ ও উপযুক্ত বেতন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণে আন্তর্জাতিক সনদায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া অভিবাসী কর্মীদের গন্তব্য দেশগুলির সাথে প্রশিক্ষণ সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে অভিবাসী কর্মীদের কর্মসংস্হানোপযোগিতা বাড়বে এবং দেশে বর্ধিত রেমিট্যান্স আসা নিশ্চিত করবে।

বাংলাদেশে টিভিইটি বেশিরভাগ আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হয়। এ জন্য বিপুলসংখ্যক স্বল্পশিক্ষিত তরুণরা এ ব্যবস্থায় সম্পৃক্ত হতে পারে না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য অনানুষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করতে হবে। যেহেতু বেতনভিত্তিক কর্মসংস্থান সীমাবদ্ধ এবং প্রতিবছর ২০ লক্ষের বেশী কর্মী শ্রমশক্তিতে প্রবেশ করছে, জাতীয় দক্ষতা ব্যবস্থায় স্ব-কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, কিশোর-প্রেনারশীপ এবং টেকনো-প্রেনারশীপ অন্তর্ভুক্ত করার উপর আরও বেশি জোর দেওয়া উচিত। এই উদ্যোগগুলি গ্রহণের জন্য প্রাসঙ্গিক কোর্স চালু করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে টেকসই দক্ষতা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলির ওপর বিশেষ মনোযোগ দেয়া দরকার:

ক) টিভিইটিতে নিযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদানকারী শিক্ষক এবং প্রশিক্ষকদের দক্ষতার উন্নয়নের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা।

খ) টিভিইটিটির জন্য কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা।

গ) পরিকল্পনা এবং মূল্যায়নের জন্য দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং শ্রমবাজারের সঠিক ডেটা সংরক্ষণ করা।

ঘ) নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ যন্ত্রপাতি আধুনিকায়ন করার ব্যবস্থা করা।

টিভিইটিতে উদ্ভাবন এবং উদ্যোগ হ'ল আধুনিক পদ্ধতির প্রাথমিক মানদণ্ড, বিশেষত উদীয়মান প্রযুক্তি এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সম্পৃক্ত ট্রেডসমূহে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ বিশেষ জরুরী। প্রযুক্তিগত বিকাশের আন্তর্জাতিক প্রবণতা মোকাবেলায় এ উদ্যোগ গ্রহণে কোনও বিলম্ব করা উচিত হবে না।

আগে বাংলাদেশের টিভিইটি সিস্টেমটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ প্রদানকেই একমাত্র দায়িত্ব বলে মনে করতো। উত্তীর্ণ প্রশিক্ষার্থীদের কর্মসংস্হানের বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয় নি এবং মনে করা হয় প্রশিক্ষণ সরবরাহকারীদের দায়িত্ব এটি নয়। কিন্তু এ ধারণা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের চাকরির ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা দরকার। এর মাধ্যমেই টেকসই প্রশিক্ষণ সিস্টেমের কার্যকর প্রতিফলন ঘটবে।

টিভিইটিতে চ্যালেঞ্জগুলি কাটিয়ে উঠতে, উপর্যুক্ত পন্থাগুলি গ্রহণ করতে হবে যা কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতিতে উদ্ভুত ইস্যুগুলোকে মোকাবেলা করবে এবং এসডিজির লক্ষ্যগুলিও পূরণ করতে সহায়তা করবে। এ সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য একটি বাস্তবভিত্তিক সুসমন্বিত কর্মপন্থা প্রণয়ন করা যেতে পারে।

[ডাঃ. মোঃ নুরুল ইসলাম, টিভিটি বিশেষজ্ঞ, এসইআইপি, অর্থ বিভাগ]

share this news to friends