নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার শিকার কুলসুমের লাশ উত্তোলন করে অবিলম্বে ময়না তদন্তের দাবি

গত ৯ আগস্ট ২০২০, মাত্র ১৪ বছর বয়সের কিশোরী কুলসুম নির্যাতনের শিকার হয়ে সৌদি আরবের কিং ফয়সাল হাসপাতালে প্রান হারায়। ১৭ মাস পূর্বে মেসার্স এম এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের (আরএল নং ১১৬৬) মাধ্যমে স্থানীয় দালাল রাজ্জাক মিয়ার সহায়তায় ৩০ হাজার টাকা খরচ করে কুলসুমকে গৃহকর্মীর কাজে সৌদি পাঠানো হয়। তার পরিবার জানান কাজে যোগদানের পর থেকেই কুলসুমের ওপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন শুরু করে নিয়োগদাতা। এই পরিপ্রেক্ষিতে তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করলেও এজেন্সি কুলসুমকে ফিরিয়ে আনার কোন ব্যবস্থা নেয়নি। গত চারমাস পূর্বে সৌদি আরবে নিয়োগদাতা নিজে ও তার ছেলে মিলে কুলসুমের দুই হাঁটু, কোমর ও পা ভেঙ্গে দেয়। এর কিছুদিন পর তার একটি চোখ নষ্ট করে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরবর্তীতে সৌদি আরবের পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কিং ফয়সাল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ৯ আগস্ট ২০২০ উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অসহায় কিশোরী কুলসুম।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ দিবাগত রাত দেড়টায় মৃত অভিবাসী কিশোরী কুলসুমের লাশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছায়। পরদিন তার লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামে দাফন করা হয়।

১৭ আগস্ট জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে কুলসুমের পিতা শহিদুল ইসলাম তার মেয়ের লাশ ও আট মাসের বকেয়া বেতন ফেরত পেতে লিখিত আবেদন করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে এর বিচারও দাবী করছেন। তাঁর পরিবার জানতে চাচ্ছে কেন বিদেশের মাটিতে কিশোরী  কুলসুমকে নির্যাতনের শিকার হয়ে অকালে প্রাণ হারাতে হল?

ইতিপূর্বে বিদেশে নারী অভিবাসী কর্মীদের উপর নির্যাতনের বিষয়টি বিসিএসএম-এর সদস্যরা যখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের নজরে আনেন, তখন তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় যে নির্যাতনের কারণে কোন শ্রমিকের মৃত্যু হলে সরকার তার যথাযথ ময়নাতদন্ত করবে। তাই কুলসুম এর মৃত্যু বিষয়ে বিসিএসএম সদস্যগণ গভীরভাবে শোকাহত এবং উদ্বিগ্ন। এর প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে বিসিএসএম এর প্রশ্ন হল:

             মাত্র ১৪ বছর বয়সী কুলসুম কিভাবে সরকারের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এম এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের (আর এল নং ১১৬৬) মাধ্যমে সৌদি আরবে অভিবাসন করার ছাড়পত্র পেল?

             যেখানে গৃহ শ্রমিকের কাজে নারীদের বিনা খরচে যাবার কথা সেখানে কেন তার পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করতে হল?

             নির্যাতনের খবর পেয়েও কেন এজেন্সী তাকে ফেরত আনার ব্যবস্থা নিলো না? এবং এই গাফিলতির জন্য এজেন্সির বিরুদ্ধে সরকার কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে? এই ঘটনা উন্মোচনের পর সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস কি ভূমিকা পালন করেছে?

             কুলসুমের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ব্যাপারে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের রিপোর্র্টে কি জানিয়েছে?

             যেহেতু কুলসুম স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেনি, এদেশে ময়না তদন্তের ব্যবস্থা না করে দাফনের অনুমতি সরকার কেন দিল?

এমতাবস্থায়, আমরা বাংলাদেশ সিভিল সোসাইটি ফর মাইগ্রেন্টস (বিসিএসএম) এর ১৯টি সদস্য সংগঠন অনতিবিলম্বে  কিশোরী কুলসুমের পরিবারের সম্মতি সাপেক্ষে লাশ উত্তোলন করে তদন্তের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে আমরা সৌদি আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। এই দেশে যে সকল রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যক্তি এবং সরকারী কর্মকর্তার যোগসাজশের কারণে কুলসুম বিদেশ যেতে সক্ষম হয়েছে এবং পরবর্তীতে হত্যার শিকার হয়েছে, সে সকল দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে কঠোর সাজাপ্রদান করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিসিএসএম সদস্যবৃন্দ:

রেফিউজি এন্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু), ওয়্যারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ব্র্যাক, বাংলাদেশি অভিবাসী মহিলা শ্রমিক এসোসিয়েশন (বমসা), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাসুগ, অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ), হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস), ইমা রিসার্চ ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক অব অল্টারনেটিভ ফিন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন (ইনাফি) বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কন্সট্রাকশন এন্ড উড ওয়ার্কারস ফেডারেশন (বিসিডবিøউডবিøউএফ), ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল একশন (ইপসা), বাংলাদেশ অভিবাসী অধিকার ফোরাম (বোয়াফ), বাস্তব, রাইটস যশোর, সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন্স (ডেভকম) লিঃ, চেঞ্জ মেকার্স এবং ফিল্মস ফর পিস ফাউন্ডেশন।

share this news to friends